ডিসেম্বর মানেই ডিসেম্বর; এর বিকল্প বলার মতো আমার মাথায় কিছু আসে না। তবে চোখের পাতায় ভেসে ওঠে আনন্দের কিছু মুখ, যে মুখের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে লক্ষ লক্ষ বাঙালি।
ছোটবেলায় বইয়ে যখন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পড়তাম তখন শুধু নতুন বইয়ের গন্ধ ছাড়া আর তেমন কিছুই পেতাম না। কিন্তু এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বা সেরকম কিছু মনে পড়লেই শরীরের ভিতরে কেমন একটা শিরশিরে অনুভব সমস্ত দেহটাকে আগুনের মতো উত্তাপ দেয়।
ঝরা পাতার মতো শোকের ছায়া নেমে আসে বিকেল হতেই! মনে হয়, ওরা আজকের জোছনা রাতে কেউ কেউ ফিরবে। আসলে কেউই আর ফেরে না। কিন্তু আমাদের ফিরতে হয়; শুধু ফিরেই শেষ না এখানে, ফিরে তাকাতে হয়, অবাক হয়ে দেখতে হয় সেইসব সুপুরুষ আর বীরাঙ্গনা মা-বোনদের দিকে। এটা ঠিক যে, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করেছি ইতোমধ্যে। কিন্তু নিজেকে কেমন যেন বিকলাঙ্গ লাগে। রাষ্ট্রের কিছু কিছু যেন মনে হয় অটিস্টিক। কোথায় উন্নয়ন? কথায় কথায় সব।
স্বাধীন হওয়া সত্ত্বেও
একাধিকবার মনে মনে জপ করি,
আমার নিরাপত্তা চাই না, আমার স্বাধীনতা চাই।
একশভাগ স্বাধীনতা— সুস্পষ্ট এবং স্বচ্ছ স্বাধীনতা।
নিজের ভাগের স্বাধীনতা,
আমাদের জন্য যা ত্যাগ করে গেছে
তার সঠিক মূল্য চাই।
ওসব কথা থাক। ডিসেম্বর মানে সবার ভিতরে একটা নতুন আমেজ আসে। আমার ভিতরেও আজ তার কমতি নেই। উত্তরী বাতাসে ঠাণ্ডা নিয়ে শীতের সাথে আসছে সেই দিন, আমাদের বিজয়ের দিন— ১৬ই ডিসেম্বর।
Comments