সম্পর্কের মাঝে বিচ্ছেদ কেন হয়? এ থেকে মুক্তির উপায়

 সম্পর্ক হল সেই জিনিস যা স্বাভাবিক ভাবেই অদৃশ্য কিন্তু মানুষের মনে একটা টান সৃষ্টি করে। সাধারণত আমাদের যেসব সম্পর্ক তৈরি হয় তা পরিবারের সাথে। পরিবারের বাইরেও আমাদের অনেক সম্পর্ক তৈরি হয়ে থাকে। 

যে সম্পর্কে কখনো বন্ধুত্ব তৈরি হয় না, সে সম্পর্কের মাঝে কখনো বিচ্ছেদ হয় না। 

বিচ্ছেদ মানে হল, ইচ্ছাকৃত ভাবে ব্যক্তির সাথে আগের মতো যোগাযোগ না রাখা। যোগাযোগ না রাখার অন্যতম কারণ হল নিজেদের মাঝে কিছু ভুল বুঝাবুঝি। এটা বেশিরভাগই হয়ে থাকে কিছু থার্ড পার্টির দ্বারা। কিছু কিছু থার্ড পার্টি প্লাগিন বা কুকি আমাদের বন্ধুত্বের মাঝে এসে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে। এরা প্রথমে উপকার করতে থাকে, অবশ্য তা নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যই। 


তৃতীয় পক্ষ সবসময় একটু বেশিই লোভনীয় হয়। তোমার আর আমার মাঝে যে বন্ধুত্ব আছে, তারা প্রথমে সে বিষয়ে পূর্ণ জেনে নেয়। পরে ছোটখাটো কিছু ঝামেলা হলেই তারা অন্য একজনকে উস্কানি দিতে থাকে। এবং লোভ দেখাতে থাকে। 

আমরা মানুষ। আমাদের বর্তমান নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়। আর এ মানুষ জন্ম মানেই প্রতিদিন ঝামেলা হবে, দ্বন্দ্ব হবে, কিছু সংঘাত হবে। এভাবে জীবনে আরেকজনের প্রতি ঘৃণা জন্মানো একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ আমরা মহামানব না যে, আমাদের রাগ থাকবে না। অতএব, তোমার প্রতি আমার কিংবা আমার প্রতি তোমার গোপনে ক্ষোভ জন্মাতেই পারে। 


আমাদের মূল যে সমস্যা তা হল প্রেম প্রেম সম্পর্ক। ধরা যাক আমার একটা মেয়ে বন্ধু আছে, নাম বর্ণা। তার সাথে আমার নিয়মিত কথা হয়। বর্ণার সাথে আমার কথা হয় সাধারণত নিজস্ব ব্যাপারেও। মানে ব্যক্তিগত বিষয়ে। এভাবে চলতে থাকলে অবশ্যই একটা আরো নিবিড় বন্ধুত্ব হতে বাধ্য। 

স্বাভাবিক কথা বার্তার মধ্য দিয়ে যেভাবে দিন কেটে যায়, এবার সেখানে যদি আমি একটা প্রেমের প্রস্তাব পেশ করি! এখন বর্ণা যদি সেটাকে গ্রহণ না করে? হ্যাঁ, অবশ্যই তখন আমাদের মাঝে আগের মতো আর সেই সম্পর্ক থাকবে না। এর স্পষ্ট কারণ হল, আমি যেভাবে চাচ্ছি, সময় সেভাবে চলছে না। এভাবে বিচ্ছেদ হতে পারে। এখানে তৃতীয় ব্যক্তি আমাদের আবেগ। 


প্রেম করতে চাওয়া মানেই, দুজন দুজনকে আরো একটু মাখামাখি করা। কিন্তু যখনই সেইসব কল্পনায় ব্যঘাত ঘটবে, তখন সম্পর্ক ছেদ হতে বাধ্য। 


সঠিক বন্ধুত্বে কখনো বিচ্ছেদ হয় না। সময়ের কারণে দেখা যায়, কখনো আগের মতো যোগাযোগ না থাকতেও পারে। কিন্তু বন্ধুত্ব মানে, আমি যখনই হাত বাড়াব, তাকে পেয়ে যাব; সেখানে না আছে অতিরিক্ত অশালীন চাওয়া, না আছে অভদ্র আলাপ। 


সঠিকভাবে বন্ধুত্ব স্থাপন করলে সেখানে কোন তৃতীয় ব্যক্তি এসে দখলদারি করতে সক্ষম হয় না। সে যদি কোন কিছুতে আমার চাওয়া আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না করে, তাও সেটা হেসে উড়িয়ে দেবা যায়। 

আর শেষ কথা হল, জীবনে একটা মেয়ে বন্ধুর দরকার সবচেয়ে বেশি। যার সাথে নিজেকে শেয়ার করা যায়। কোন প্রেম না। 

প্রথমে এডজাস্টমেন্ট শিখতে হবে। বন্ধুর প্রতিক্রিয়াকে মূল্যায়ন করতে হবে। 


আবার ফেরা যাক আমাদের সেই বিচ্ছেদে। তোমার সাথে যার ভাল বন্ধুত্ব আছে, তার সম্পর্কে যদি অন্য কেউ খারাপ কিছু বলে, তা না শুনে সরাসরি তাকে বাঁধা দাও। তুমি শুনবে মানেই, সম্পর্কে ফাটল ধরবে। এক আধটু রাগ বা কোন বিষয়ে যদি ক্ষোভ হয়, অভিমান হয়, সাথে সাথে না হোক- সেই দিনের মধ্যেই তা মিটিয়ে নিবে; তার মধ্যে যেন কোন থার্ড পার্সন না আসে। অন্যের উস্কানিতে কান না দিয়ে নিজেরাই নিজেদের সম্পর্কে সঠিক জেনে তার ভুল ত্রুটি মুছে নিবে। 

যেমন, তার ছোটখাটো কোন ভুল হলেও তা আমার চোখে সুন্দর লাগে। বন্ধুত্বের মধ্যে ভুল যে করুক না কেন, তুমি সেটা ভুল মনে করবে না, মনে করবে- এটা হতেই পারে। প্রয়োজনে তুমিই ক্ষমা চাইবে। এটাই আসল বন্ধুত্ব এবং এখান থেকেই আমাদের মূল ভালবাসা সৃষ্টি হয়। 


তুমি আবেগের চাপে পড়ে যা কর, তা কখনোই ভালবাসা না। তা ফুরিয়ে যাবে। 

Comments