ফটোগ্রাফি জগতের বাংলাদেশের আসাদ যেন এক জীবন্ত প্রচ্ছদ

বিশ্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ফটোগ্রাফি  হলো অনন্য পেশা বা শখ। তাই বাংলাদেশের এমন এক তরুণের কথা বলতেই আজকের শিরোনাম হলো জীবন্ত প্রচ্ছদ কে এম আসাদ  এর তোলা ছবি স্থান পেয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাময়িকী পত্রিকা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক  এর ১৩১তম প্রকাশের প্রচ্ছদে।

 আসাদের তোলা এই ছবিটাই।স্থান পায় ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর প্রচ্ছদে 

খুব অত্যাধুনিকতার এই শ্রেষ্ঠ সময়ে বেশিরভাগ মানুষেরই একটা সুপ্ত অথবা প্রকাশ্য শখ হলো ফটোগ্রাফি করা। নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে বা শহরের স্তবকে, সুন্দর একটা ছবি তুলে সেটা প্রকাশের তীব্র ইচ্ছা সবারই আছেই।

আসাদ থেকে ফটোগ্রাফার আসাদ : পেশাদার আলোকচিত্রী (ফটোগ্রাফার) হিসেবে আসাদের হাতেখড়ি হয় স্নাতক (অনার্স) পড়ার সময়। উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সে পাকাপোক্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ফটোগ্রাফার সে হবেই। ঢাকার এক কলেজে যখন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকের প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়, তারপরেই একই সময়ে ভর্তি হয় পাঠশালা সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট -এ। আসাদ স্নাতক অর্জন করে আলোকচিত্রী শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠান থেকেই। এখন দেশি-বিদ্বশি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের হয়ে মুক্ত পেশাজীবি হিসেবে কাজ করে। 
তার আলোকচিত্র পেয়েছে জাতীয় ও নানান আন্তর্জাতিক পুরস্কার। যে ছবিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর প্রচ্ছদ আসাদ রাঙাল, দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করে সেই ছবির জন্যই 'ইউনিসেফ ফটো অব দ্য ইয়ার-২০১৭' প্রতিযোগিতায়। এ ছাড়াও 'হিপা মোমেন্ট' আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় ২০১৮ সালে অর্জন করে প্রথম স্থান। ফটোগ্রাফি দুনিয়ায় স্বীকৃত সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে এই হিপা বা হামদান ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড, যা আরব আমিরাতের দুবাই ভিত্তিক। 
কে এম আসাদ জায়গা পেয়েছিল বাঙালির বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে ছুটির দিনের উদীয়মান তরুণ সংখ্যায়, তা শুধু এমন স্বীকৃতি আর সম্মার জন্যই। ২০১৮ সালে প্রকাশিত প্রথম আলো -র সেই সংখ্যায় আসাদকে নিয়ে লিখেছিল আবীর আব্দুল্লাহ;—অসীমের পানে আসাদ শিরোনামে। 
অনেকের কাছে যা জয় করা অসম্ভব বলে মনে হয়, সেইসবই জয় করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা আসাদের!! 

পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে ছবি বিষয়ক ইমেইল সে নিয়মিত পেয়ে থাকে, তবে মে মাসে পাওয়া সেই মেইল টা আসাদকে রোমাঞ্চিত করে, যা পাঠায় ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সাময়িকীর আলোকচিত্র বিভাগের এক কর্মী। 
আসাদের তোলা ছবি তারা আগস্ট সংখ্যায় ব্যবহার করতে চায়। সেই ছবি ব্যবহারের অনুমতির প্রসঙ্গ ও কিছু তথ্য যাচাই বাছাই এর জন্যই মেইলটা করেছিল।
বিষয়টি আসাদের কাছে স্বপ্নের মতো। দ্রুত মেইলের উত্তর দেয়।ছবির ব্যাপারে যা যা জানানো প্রয়োজন তা জানাতে প্রস্তুত। 
আবার মেইল এলো। আসাদ বুঝল, তারা ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করতে কিছু খুঁজছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই করে নেয়। ছবিটি যান্ত্রিক উপায়ে তৈরি কি না, তা যদি না হয় তাহলে কতটা সত্যি, ছবির মডেল যে ব্যক্তি - তার অনুমতি আছে কি নেই ইত্যাদি। 
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কে সব নিশ্চিত করে দিল কিন্তু মডেল?
ছবিটি ২০১৭ সালে তোলা। লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে সেই সময়। আসাদ পালটা প্রশ্ন করে, এরকম পরিস্থিতিতে কি অনুমতি নেওয়া সম্ভব? 

তারা নিশ্চিত করে যে ছবিটি তারা ব্যবহার করছে। যখন নিশ্চিত করা হলো প্রচ্ছদেই যাচ্ছে ছবিটি, তখন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সম্মানী পাঠানোর জন্য তথ্য চায়।একাউন্টে যখন সম্মানীর অর্থ অংক জমা হলো, সেটাও অবাক বিষয়। সাড়ে চার হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় চার লাখ টাকা। আসাদের কাছে টাকা না, ছবি প্রকাশিত হচ্ছে এটাই বড়।

Comments

Unknown said…
ভাইয়া, আপনার লেখাগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে ওই "চত্বর" কবিতাটা এবং এইটা দিয়ে দ্বিতীয়টা।
কবিতাটায় আমি শুধু ইংরেজিতে লিখেছিলাম 'I appriciate it. আসলে আমি জানতামই না যে,আমাদের বাংলাদেশের এমন এক তরুণের ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর মতো শ্রেষ্ঠ সাময়িকীতে স্থান করেছে। আমিও মাঝে মাঝে আমার মোবাইল দিয়ে ফটোগ্রাফি করি, এটা করতে খুব ভাল লাগে। আর আজ আসাদ ভাইয়ার এই কৃতিত্ব জানতে পেরে সত্যিই আমি অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি।
আপনার জন্য সবসময় শুভ কামনা রাখছি আর আমার জন্য দোয়া করেন, যেন আমিও অনেক বড় ফটোগ্রাফার হতে পারি।
Wow Rakibul said…
অনেক অনেক ভালবাসা ও ধন্যবাদ এবং শুভকামনা
Wow Rakibul said…
অনেক ধন্যবাদ প্রিয়