গুগলের দ্বারা নিজের ক্যারিয়ার সুগঠন ও লক্ষ্য পূরণের নিশ্চিত যাত্রা

নিজের ক্যারিয়ার গড়ুন গুগলের দ্বারা :
 আমরা মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করেছি পৃথিবীতে ;অতএব, মানবজীবনকে সার্থক ও সাফল্যময় করতে আমাদের কিছুটা প্রয়োজন থেকেই যায়। সফলতা এমনিই আসে না, তার জন্য কঠিন পরিশ্রম ও যথেষ্ট সাধনা দরকার।

ক্যারিয়ার গঠন : ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সমাজের বুকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ এবং স্থাপন করা। তারজন্য আমরা কিছু টার্গেট নির্ধারণ করি, যা একটার পরে একটা পূরণ করতে পারলে আমরা আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। ক্যারিয়ারের বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্যে অন্যতম হলো নিজেকে উপার্জনক্ষম করে তোলা ; আর ঠিক এখানে এসেই প্রচন্ডভাবে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়।
ক্যারিয়ার গঠনে বাঁধা মোকাবিলা : প্রথমে নিজেকে উপার্জনক্ষম করার জন্য লাগে উদ্যোগ, পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের দৃঢ় মনো শক্তির প্রবলতা। একটা কিছু শুরু করতে হলে তার পিছনে কিছু বিনিয়োগ করতে হবে— এই ভাবনাটাই খুঁড়ে খায় আমাদের। নিজের মধ্যে আবার এরকম ভাবনাও আসে যে, আমি।যেটা করতে যাচ্ছি,?মানুষ সেটা কতটা গ্রহণ করবে? আমি কি এগিয়ে যেতে পারব? আমি সাপোর্ট পাব কোথায়? থাক এটা কিছুদিন পরে করব; আগে ওটা করি।
হ্যাঁ,  এটাই স্বাভাবিক আর এটা হয়েই থাকে প্রায় ক্ষেত্রে। কিন্তু এগুলো মোকাবিলা করতে হবে। মোকাবিলা করার জন্য অনেক পথ আছে, আছে চারদিকে অনেক হাত, যারা এখন হয়তো অদৃশ্য কিন্তু পরবর্তীতে তারা তোমার দিকে একশভাগ সাপোর্ট দিবে, যদি তুমি খুঁজে বের করতে পার তবেই।

ক্যারিয়ার গঠনের পথে সমস্যা চিহ্নিতকরণ : আমি যদি এই।পথে নেমে পড়ি, তাহলে কী কী সমস্যা হতে পারে সেগুলো চিহ্নিত করে একটা একটা করে অতিক্রম করতে হবে। জীবনে কোন সমস্যা-ই খুব গুরুতর না; প্রতিটা সমস্যা নিতান্তই ক্ষুদ্র এবং সেগুলো বালির মতো। 
তবে আমার মনোভাব যদি স্যাঁতসেঁতে, খুব দূর্বল এবং পানির মতো হালকা হয় তাহলে এই দুইটা মিলে বিশাল সমস্যামান পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে, যা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভালো লক্ষ্য নির্ধারণ : 
বর্তমান সময়ে নিজের লক্ষ্য ও ইচ্ছা বা স্বপ্ন পূরণের জন্য রয়েছে অবাধ সুযোগ।
এটাকে নিজের প্রয়োজন মতো তৈরি করে নিতে পারলেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা একদমই অসম্ভব না। সেক্ষেত্রে নিজেকে একটু যাচাই করতে হবে। তোমার মধ্যে কোন ভালো গুন গুলো সবচেয়ে বেশি আছে, কোন কাজটা তুমি খুব আনন্দ এবং উৎসাহের সাথে করতে পার সেগুলো খেয়াল করো।
তুমি ভাল ছবি আঁকতে পার,তার জন্য অনেক প্লাটফর্ম আছে, যারা কোন প্রকার ইনভেস্ট ছাড়াই তোমার আঁকা ছবি প্রকাশের সুযোগ দেয় এবং খুব ভাল মানের হলে তারা অথবা তাদের মাধ্যমে তুমি বিক্রি করতে পার। বর্তমান সময়ে ফাইভার এসব দিক বিবেচনায় একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। যদি তুমি ভাল ছবি তুলতে পেরে থাক তাহলে আছে পেক্সেল , এখান থেকেও আয় করা সম্ভ। শুধুমাত্র নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাতে হবে। আবার ভালো লেখক বা নিজেকে অথবা কিছু প্রকাশের জন্য রয়েছে আপ পাবলিশ। 
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় গ্রাফিকস ডিজাইন এবং ওয়েব ডিজাইন আর তার সাথে আছে প্রোগ্রামিং শেখার অনন্য সুযোগ। 
সবশেষে এসবের জন্য আবার প্রয়োজন একটা ওয়েবসাইট, যেখানে নিজের পোর্টফোলিও উপস্থাপন করা যাবে। ডোমেইন কিনে ওয়েবসাইট বানাতে গেলে টাকা দরকার এবং ডিজাইনার বা ডেভলপারদের ভাড়া করতে হবে যা সত্যিই ব্যয়বহুল। কিন্তু গুগল আমাদের দিয়ে থাকে বিনামূল্যের সেবা।
ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি : গুগল ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে ডেস্কটপ পিসি বা ল্যাপটপ পিসির  কোন দরকার নেই; হাতের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বা আইফোন ডিভাইস দিয়েই এটা করা সম্ভব খুব সহজ কিছু প্রক্রিয়ায়। 
খুব কম সময়ে এবং একদম বিনামূল্যে নিজের ওয়েবসাইট তৈরির জন্য রয়েছে গুগলের ব্লগার, যেখানে মাত্র কয়েকটি ধাপে এটির নাগাল ও অধিকার পাওয়া যায়।ব্লগারে গুগল দিয়ে সাইন ইন করে একটা ব্লগ ক্রিয়েট করলেই এটা হয়ে যাবে। এবং ফ্রি থিম ও কাস্টমাইজেশন ব্যবহার করে এটা আকর্ষণীয় ও ব্যবহার উপযোগী করা আরো সহজ।
এখানে নিজের পোর্টফলিও তৈরী এবং তুমি যে কাজটা করো সেটা নিয়ে লেখালেখি বা কন্টেন্ট ক্রিয়েট (ব্লগিং) করতে পারবে। এবং অবশ্যই সেটা তোমার দক্ষতা ও প্রতিভার দ্বারা পরিচালনা করবে তাই নিয়মিত ভিজিটর বাড়লে অ্যাডসেন্সের থেকে আবেদন করে অ্যাড দেখিয়ে প্রতি মাসে ইনকাম করতে পারবে। একসময় এটা তোমার ভাগ্য পরিবর্তন করে দিবে।
গুগল বিজনেস সাইট : এসবের সাথে আছে গুগলের অন্যতম আরেক সেবা ব্যাবস্থা গুগল বিজনেস। এখানে নিয়মিত নিজের পণ্য,সেবা ও তৈরি সমূহ আপলোড করে সেগুলো বিক্রি করা যায়। যেহেতু এরা গুগলের নিজস্ব তাই আলাদা এসইও এর দরকার হয় না, এমনিই সার্চ র‍্যাংক প্রথমে আসে।

অতএব, আমি বলব- এভাবে তুমি তোমার ক্যারিয়ার নিশ্চিত করতে পার।একটু সময় ও শ্রম দাও।

Comments